রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি হাট এলাকায় অবস্থিত সরকারি দুগ্ধ ও গবাদি উন্নয়ন খামারের আম ও জাম গাছ নিলামে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, খামার চত্ত্বরের প্রায় ২০০টি আম এবং প্রায় ১০০টি জাম গাছের(ফল) নিলামের জন্য সরকারি ডাক আহ্বান করা হয়। নিলামে ৩৯ বিডার অংশগ্রহণ করেন। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২০০টি আম গাছ মাত্র ৫০ হাজার টাকায় ও ১০০টি জাম গাছ মাত্র ৪ হাজার টাকায় নিলাম দেয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, খামার কর্মকর্তা ইসমাইল হকের নেপথ্যে মদদে চেনা মুখের একটি চক্র'সমঝোতা' নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে প্রায় ৩০০টি গাছ মাত্র ৫৪ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে,সেখানেই এক লাখ ১৬ হাজার টাকায় সাব-ইজারা দিয়ে বাকি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। এদিন ৩৯ জন বিডার মাথা পিছু ১২শ' টাকা করে লভ্যাংশ পেয়েছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধান করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী সরেজমিন তদন্ত পুর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।নিলামে ৩৯ জন অংশগ্রহণ করেন।কিন্ত্ত অদৃশ্য কারণে প্রায় দেড় লাখ টাকা মুল্যর গাছ নিলামে ৫৪ হাজার টাকার বেশী কেউ ডাক দেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,এদিন গাছ নিলাম কার্যক্রম শুরুর পুর্বে নিলামে অংশগ্রহণকারিদের সঙ্গে খামার কর্মকর্তা ইসমাইল হককে খোশগল্প করতে দেখা যায়।এরপর শুরু হয় নিলাম ডাক,তবে খামার কর্মকর্তার অদৃশ্য ইশারায় কেউ ৫০ হাজার টাকার বেশী ডাক দেননি।অথচ নীতিমালা অনুযায়ী নিলামে বাজার মুল্যর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না হলে পুনরায় নিলাম আয়োজন করার কথা।তবে সেটা না করে তড়িঘড়ি নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজাবাড়ি দুগ্ধ ও গবাদি উন্নয়ন খামারের উপ-পরিচালক ইসমাইল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন , নিলাম প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের আম গাছগুলো সব নিম্নমানের এবং জাম গাছ সংখ্যায় খুবই কম।
মাত্র ১০টি জাম গাছ ৪ হাজার টাকায় এবং ২০০টি আম গাছ ভ্যাটসহ সাড়ে ৬২ হাজার টাকায় নিলাম দেওয়া হয়েছে।নিলামের পরপরই দ্বিগুণ দামে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও যোগ করে বলেন "সেখানে শত শত মানুষ উপস্থিত ছিল। সরকারি ডাকে ৫০ হাজার টাকার উপরে কেউ দাম না বলায় নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাটসহ সাড়ে ৬২ হাজার টাকায় আম গাছ ও ৪ হাজার টাকায় জাম গাছ নিলাম দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে তারা ভেতরে কী সমঝোতা করেছে বা কত দামে বিক্রি করেছে, সেটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়; এতে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।"
এদিকে সরকারি খামারের বিপুল পরিমাণ গাছ এত কম মূল্যে নিলাম হওয়া এবং মুহূর্তের মধ্যে তা দ্বিগুণ দামে বিক্রি হওয়া নিয়ে এলাকায় নেতিবাচক মুখরোচক নানা গুঞ্জন বইছে।স্থানীয়দের দাবি, সঠিক প্রচার এবং উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিবেশ থাকলে সরকারি কোষাগারে আরও বেশি রাজস্ব জমা হতে পারত।স্থানীয়রা জানান,দীর্ঘদিন যাবত একটি চক্র খামারের নিলাম কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এ. এস.এম
মুরসিদ। মোবাইল: 01728 311111
ঢাকা অফিসঃ হোল্ডিং-১৩, লাইন-৬, রোড- ১২, ব্লক-বি, মিরপুর-১১, ঢাকা-১২১৬।
ফরিদপুর অফিসঃ মুজিব সড়ক, ফরিদপুর। মোবাইলঃ ০১৭১১ ৯৩৯৪৪৫