মোঃ জিয়াউর রহমানঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পল্লী চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর আলমের ওপর হত্যা চেষ্টা ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পল্লী চিকিৎসকরা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ আহবান জানান।
দৌলতপুর উপজেলা পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাহীন বলেন, “আমাদের সমিতির সদস্য ডা. জাহাঙ্গীর আলমের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
আমরা আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. সুমন বলেন, “ডা. জাহাঙ্গীর একজন ভালো মানুষ। রাতে আঁধারে তার ওপর যে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
এদিকে ডা. আবু সাঈদ অভিযোগ করে বলেন, “ঘটনার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের হুমকি দিচ্ছে। মামলা হলেও পুলিশ এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যা উদ্বেগজনক।
পল্লী চিকিৎসকরা জানান, এমন ঘটনায় তাদের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেফতার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
এরআগে ২৯ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার আল্লারদর্গা বাজার থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে জয়ভোগা চাররাস্তার মোড়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় জাহাঙ্গীর আলম নামে এক পল্লী চিকিৎসককে কুপিয়ে জখম করেছে।
আহতরা জাহাঙ্গীর আল্লারদর্গা ইউনিয়নের জয়ভোগা গ্রামের বাসিন্দা। পথিমধ্যে জয়ভোগা চাররাস্তার মোড়ে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জের ধরে স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র—কুড়াল, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
এ ঘটনায় চিকিৎসক জাহাঙ্গীর এর ভাই আবু বাদী হয়ে বুধবার দৌলতপুর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, হামলায় জড়িতরা হলেন—জয়ভোগা গ্রামের আবু হানিফের ছেলে মাহাথির (২৪) ও মাহি (২০), নাহারুলের ছেলে রকিব (২২) ও রকি (২০), ছিয়াদের ছেলে রাজিব (২০) এবং আমদহ বোর্ডপাড়া গ্রামের শাজাহানের ছেলে সুমন (২৫)সহ আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি।
স্থানীয়দের আর্তচিৎকারে ছুটে আসতে দেখে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দৌলতপুর থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এ. এস.এম
মুরসিদ। মোবাইল: 01728 311111
ঢাকা অফিসঃ হোল্ডিং-১৩, লাইন-৬, রোড- ১২, ব্লক-বি, মিরপুর-১১, ঢাকা-১২১৬।
ফরিদপুর অফিসঃ মুজিব সড়ক, ফরিদপুর। মোবাইলঃ ০১৭১১ ৯৩৯৪৪৫