সাহিদা পারভীন:
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৎস্যজীবীদের ভিজিএফ কার্ডের চাউল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, পদ্মা ও গড়াই নদী থেকে ঝাটকা আহরণ বন্ধ রাখায় সরকার তাদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ১শ ৬০ কেজি করে চাউল বিতরণের উদ্যোগ নেয়। গত মাসের শেষ সপ্তাহে এ বিতরণ কাজ সম্পন্ন হয়।
কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া, সাওরাইল ও কালিকাপুর ইউনিয়নের ৩শ ৬৩ জন জেলে এ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। গত সপ্তাহে রতনদিয়া ইউনিয়নের ২শ ১৩ জন ও সাওরাইল ইউনিয়ন পরিষদের ৬৫ জন মৎস্যজীবীর ১শ ৬০ কেজি করে চাউল বিতরণ ঠিকমতো সম্পন্ন হলেও গোল বাঁধে কালিকাপুর ইউনিয়নে।
ওই ইউনিয়নের মৎস্যজীবীরা জানান, কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আতাহার আলী ও সচিব রবিউল ইসলাম তাদের বরাদ্দকৃত চাউল ১শ ৬০ কেজির পরিবর্তে ১শ কেজি করে প্রদান করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে সাতটি গ্রামের মৎস্যজীবী বারেক শেখ, বাকপ্রতিবন্ধী মৎস্যজীবী সোবাহান শেখের স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং আবুল হোসেনের স্ত্রী লিপি বেগমের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, সরকারের মানবিক সহায়তার ১শ ৬০ কেজি চাউল তারা পাননি; পেয়েছেন ১শ কেজি করে।
পাড়া বেলগাছী গ্রামের মৎস্যজীবী আজগর আলী ও খোরশেদ মন্ডল জানান, তাদেরকেও চাউল কম দেওয়া হয়েছে। পাড়া বেলগাছীর রবিউল সরদার জানান, তাকে ১শ ৬০ কেজির স্থলে ১শ কেজি চাউল দেওয়ায় তিনি প্রতিবাদ করেন। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রবিউল ইসলাম তার ১শ কেজি চাউলও ফেরত নিয়ে নেন।
রবিবার সকালে বিষয়টি জানার জন্য ইউপি সচিব রবিউল ইসলামের কাছে গেলে তিনি এ ব্যাপারে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তথ্য নিতে হলে তথ্য আইনে আবেদন করতে হবে। এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, ইউপি সদস্যদের সুপারিশের কারণে ৫ জনের চাউল কম দেওয়া হয়েছে। তবে সেই ৫ মৎস্যজীবীর নাম তিনি বলতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান ও আঃ রাজ্জাক বিষয়টি অস্বীকার করেন। তারা জানান, কম দেওয়ার ব্যাপারে তারা প্রতিবাদ করেছিলেন, কিন্তু সচিব রবিউল ইসলাম তা শোনেননি।
মৎস্যজীবীদের চাউল বিতরণ কাজের তদারকি কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র শীল জানান, বিতরণের দিন ১৯ জন মৎস্যজীবীর চাউল বিতরণ বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে তার উপস্থিতিতে এসব চাউল বিতরণের কথা থাকলেও তাকে উপস্থিত না রেখেই বিতরণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
কালুখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট জানান, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আতাহার আলী ও সচিব রবিউল ইসলাম নিজেদের দায়িত্বে মৎস্যজীবীদের চাউল বিতরণ করেছেন, তাই বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আতাহার আলী মৎস্যজীবীদের চাউল কম বিতরণের দায় নিতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নিজ দায়িত্বে দ্বিতীয় দিনের চাউল বিতরণ করেন। এ কাজে অনিয়ম হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
মৎস্যজীবীরা এ ঘটনার তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এ. এস.এম
মুরসিদ। মোবাইল: 01728 311111
ঢাকা অফিসঃ হোল্ডিং-১৩, লাইন-৬, রোড- ১২, ব্লক-বি, মিরপুর-১১, ঢাকা-১২১৬।
ফরিদপুর অফিসঃ মুজিব সড়ক, ফরিদপুর। মোবাইলঃ ০১৭১১ ৯৩৯৪৪৫