জসীমউদ্দীন ইতিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। নিজের নবজাতক সন্তানের পিতৃপরিচয় আর সামাজিক স্বীকৃতির দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বেলি রাণী নামের এক অসহায় নারী। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ওই শিশুটি তার প্রাপ্য পিতৃস্বীকৃতি কিংবা কোনো আইনি সমাধান পায়নি।
জানা গেছে, বেলি রাণীর দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জজকোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। ভুক্তভোগী মা বারবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সন্তানের পিতৃপরিচয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানালেও মামলার ধীরগতি ও নানা আইনি জটিলতায় বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে। ফলে নবজাতককে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
বেলি রাণীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় অর্থ ও ক্ষমতার দাপটে বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এতে করে আইনের আশ্রয় নিয়েও ন্যায়বিচার বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। বেলি রাণী বলেন, "আমি শুধু আমার সন্তানের পরিচয় চাই। একটা নিষ্পাপ শিশু কেন পিতৃপরিচয়হীন ভাবে বেড়ে উঠবে?"
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি কেবল একটি পরিবারের সংকট নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার একটি চিত্র। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, শিশুর পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতা শিশুর অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভুক্তভোগী মা ও তার সন্তানের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
ক্ষমতা আর প্রভাবের লড়াইয়ে একজন অসহায় মা ও তার নবজাতকের ভবিষ্যৎ এখন খাদের কিনারে। ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ এখন তাকিয়ে আছে আদালতের দিকে—কবে অবসান হবে বেলি রাণীর এই প্রতীক্ষার এবং কবে একটি শিশু ফিরে পাবে তার হারানো পরিচয়?
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এ. এস.এম
মুরসিদ। মোবাইল: 01728 311111
ঢাকা অফিসঃ হোল্ডিং-১৩, লাইন-৬, রোড- ১২, ব্লক-বি, মিরপুর-১১, ঢাকা-১২১৬।
ফরিদপুর অফিসঃ মুজিব সড়ক, ফরিদপুর। মোবাইলঃ ০১৭১১ ৯৩৯৪৪৫