নাঈমুল ইসলামঃ
রংপুর মহানগরীর তাঁতিপাড়া এলাকায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। সহকর্মী ও বন্ধু হিসেবে পরিচিত দুই অটো রিক্সাচালকের মধ্যকার ঝগড়া শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী রূপ নেয়। এতে অটোরিকশার চাবির আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন মো. আমিনুল ইসলাম (৩৫) নামে এক চালক।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত আমিনুল এবং অভিযুক্ত চালক দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই তাদের মধ্যে ছোটখাটো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনমালিন্য চলছিল। এই ঝগড়া তীব্র আকার ধারণ করে গতকাল রাতে। গতকালের রেশ ধরে আজ সকাল ১১টার দিকে আবারো দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি রাগের মাথায় তার হাতে থাকা অটোরিকশার চাবি দিয়ে আমিনুলের শরীরে সজোরে আঘাত করেন। চাবির আঘাতটি দেহের কোনো একটি স্পর্শকাতর স্থানে লাগার কারণে আমিনুল সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। উপস্থিত লোকজন তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।
ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, তা নিয়ে এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আমিনুলের স্বজনদের দাবি, গতরাতের ঝগড়ার পর আজ তাকে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা ময়নাতদন্ত এবং তদন্তের পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ। আমিনুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। এলাকায় কোনো ধরণের সাম্প্রদায়িক বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এমন ভয়াবহ পরিণতিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় চালকরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ এখন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এ. এস.এম
মুরসিদ। মোবাইল: 01728 311111
ঢাকা অফিসঃ হোল্ডিং-১৩, লাইন-৬, রোড- ১২, ব্লক-বি, মিরপুর-১১, ঢাকা-১২১৬।
ফরিদপুর অফিসঃ মুজিব সড়ক, ফরিদপুর। মোবাইলঃ ০১৭১১ ৯৩৯৪৪৫