জসীমউদ্দীন ইতিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হওয়ার এক মাস ১০ দিন পার হয়ে গেলেও আসামী গ্রেপ্তার হয়নি। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, আসামী এলাকায় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক বিভিন্ন নেতার সাথে সুসম্পর্ক থাকার কারণে পুলিশ আসামী ধরছে না। তবে পুলিশ বলছে, আসামী ধরতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছেন তারা।
জানা গেছে, গত ২১ জুন শনিবার সকালে উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের কাচনা মধুপুর গ্রামের ফাজেল হক (৪৭) বাবা-মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মাদ্রাসা ছাত্রীকে আম খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাড়ীর পাশে পাটক্ষেতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে মাদ্রাসা ছাত্রী চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে টাকা কথা বলে চুপ করে কৌশলে পালিয়ে যায়।
মাদ্রাসা ছাত্রী তার বাসায় মাকে ঘটনার কথা জানালে গত ২২ জুন বালিয়াডাঙ্গী থানায় ফাজেলকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। তবে মামলার এক মাস ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও আসামীকে ধরতে পারেনি পুলিশ। আসামী ফাজেল হক (৪৭) উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের কাচনা মধুপুর গ্রামের খিসমত আলীর ছেলে। তার স্ত্রী ও সন্তান সবই রয়েছে।
শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে ওই গ্রামে গেলে ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা বলেন,‘আমার টাকা নেই, রাজনীতি করি না, নেতার সাথে সম্পর্ক নেই। তাই কেউ আমার কথা শুনছে না। হাবাগোবা মেয়েটার সর্বনাশ করেছে ফাজেল। বয়সে বাবার মত। পুলিশ আসামী ধরছে না। কী করবো, অসহায় হয়ে গেছি। এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আসামীর সম্পর্ক ভালো। এই কারণে আসামী পুলিশ ধরছে না’ বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্রীর মা বলেন,‘মেয়েটা আমার এমনিতে সাদাসিদা। গায়ে-গতরে বড় হলেও মাথায় বুদ্ধি নেই। এই সুযোগে মেয়েটার সর্বনাশ করেছে। কেউ আমাদের বিচারটা করে দেন বাবা, গরীব লোক আমরা বিচার কি পাবো না।
প্রতিবেশী কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আসামী ফাজেল এর আগেও কয়েক বছর আগে নিজের ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে পরকীয়া জড়িয়েছিলেন। পরে সেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। পাশের গ্রামের এক নারীর সাথেও কেলেঙ্কারী ছিল অভিযোগ তুলেন প্রতিবেশীরা। পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মাদ্রাসা ছাত্রীর বাড়ী থেকে উত্তরপার্শ্বে একটু হেটেই ফাজেলের বাড়ীতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক আসার খবরে সবাই বাড়ী থেকে সরে গেছে। লোক পাঠিয়ে তার স্ত্রীকে ডাকলেও তিনি আসেননি।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি শওকত আলী সরকার জানান,‘পুলিশ আসামী ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে যাওয়ার কারণে নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত কাজ শেষ এবং আসামী ধরা হবে’ বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এ. এস.এম
মুরসিদ। মোবাইল: 01728 311111
ঢাকা অফিসঃ হোল্ডিং-১৩, লাইন-৬, রোড- ১২, ব্লক-বি, মিরপুর-১১, ঢাকা-১২১৬।
ফরিদপুর অফিসঃ মুজিব সড়ক, ফরিদপুর। মোবাইলঃ ০১৭১১ ৯৩৯৪৪৫