প্রদীপ্ত চক্রবর্তীঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়রা চবি শিক্ষার্থীদের লক্ষ করে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করছে। এর মধ্যে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা রামদা দিয়ে কুপিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে ছাঁদ থেকে নিচে ফেলে দিয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা গেছে গত শনিবার রাতে দেরিতে বাড়িতে ফেরায় এক ছাত্রীকে বাসার দারোয়ান কর্তৃক মারধরকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনার সূত্রপাত।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটের কাছে এক ছাত্রী একটি ভবনে ভাড়া থাকেন। গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে তিনি ওই ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে দারোয়ানের সঙ্গে তার তর্ক বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে ভবনের দারোয়ান তাকে (ওইছাত্রীকে) মারধর করেন।
এ সময় ২ নম্বর গেটে থাকা শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া করলে স্থানীয় লোকজন শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। তখন সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এরপর স্থানীয় লোকজন মাইকে ডেকে লোক জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা হামলা চালিয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে ঘরবাড়ি।
রাত সোয়া ১২টা থেকে আজ রোববার ভোর ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে ।
আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে স্থানীয়রা লাঠি সোটা নিয়ে আসলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এসময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘর লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে দেখা গেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষই ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালালে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
একই সময়ে আরেকজন শিক্ষার্থীকে ধানক্ষেতে কোপাতে দেখা গেছে। রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এরই মধ্যে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। তবে এখনো কোনো বাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়নি।
একাধিক ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযো মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
আহতদের একজন হলেন, রাজিউর রহমান রাজু, তিনি ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী। বাকি দুইজনের নাম ও বিভাগ এখনো জানা যায়নি, তবে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় মারধর করে মেরে ফেলছে সন্ত্রাসীরা।
আমরা রাষ্ট্রের সহায়তা চাইছি অনবরত। কিন্তু তাঁরা আমাদের কথা কানে তুলছে না। এসব হামলা সাধারণ মানুষের কাজ নয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এ. এস.এম
মুরসিদ। মোবাইল: 01728 311111
ঢাকা অফিসঃ হোল্ডিং-১৩, লাইন-৬, রোড- ১২, ব্লক-বি, মিরপুর-১১, ঢাকা-১২১৬।
ফরিদপুর অফিসঃ মুজিব সড়ক, ফরিদপুর। মোবাইলঃ ০১৭১১ ৯৩৯৪৪৫