আলিফ হোসেনঃ
রাজশাহী অঞ্চলের প্রচন্ড খরাপ্রবণ বরেন্দ্রের ধুুধু তাপদাহের মাঝে এক খন্ড জলরাশি সাফিনা পার্ক।বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের বিনোদন খরা কাটিয়ে বিনোদন পিপাসুদের বিনোদন তৃষ্ণা মেটাচ্ছে সাফিনা পার্ক। পাশাপাশি এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পুরুণ করেছে সাফিনা পার্ক।
একই সঙ্গে বদলে গেছে এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র।পার্ককে কেন্দ্র করে অনেকে হয়ে উঠেছে স্বাবলম্বি। একটি প্রতিষ্ঠান কিভাবে একটি এলাকার চিত্র বদলে দিয়ে আলাদা পরিচয় দিতে পারে তার জলন্ত উদাহরণ বিনোদন কেন্দ্র সাফিনা পার্ক। ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে গোদাগাড়ী থানা সারাদেশে মাদক প্রবণ এলাকা হিসাবে পরিচিত। সেই মাদক প্রবণ এলাকা এখন সারাদেশে পরিচিতি পাচ্ছে সাফিনা পার্কের নামে।
জানা গেছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বালিয়াঘাটা এলাকার দুই সহোদর ফজলুর রহমান ও সাইফুল ইসলাম ২০১২ সালে উপজেলার দিগ্রাম এলাকায় নিজেদের প্রায় ৩২ বিঘা জমিতে সাফিনা পার্ক নামে একটি পিকনিক স্পট গড়ে তোলেন যেটা আজকে প্রায় একশ’ বিঘা জমির উপরে অবস্থিত।বিনোদনের নতুন নতুন আয়োজনে সাজানো পার্কটি এখন সব বয়সী দর্শনার্থীদের কাছে চিত্ত বিনোদন ও পিকনিক স্পট হিসেবে সারাদেশে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। নানা রকম রাইড,ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ দিয়ে ঘেরা পার্কের ভিতর রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা, কৃত্রিম লেক, সুইমিংপুল, কৃত্রিম উপায় তৈরিকৃত বিভিন্ন পশু পাখির আকর্ষণীয় ভাস্কর্য, শিশুদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন রাইড ও কিডস জোন।
এছাড়াও যে কোন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সাফিনা পার্কে রয়েছে পিকনিক স্পট কনফারেন্স রুম, মঞ্চের ব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের কেনাকাটার সুবিধার্থে পার্কের অভ্যন্তরে একটি মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাত্রি যাপনের জন্য করা হয়েছে সুন্দর সুন্দর রিসোর্টের ব্যবস্থা। এখনো চলমান রয়েছে বিভিন্ন রকম উন্নয়ন কাজ। পার্কটি গোদাগাড়ীতে আশীর্বাদ স্বরূপ তৈরি হয়েছে বলছেন স্থানীয়রা, যেখানে শতশত বেকার যুবকের তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান। এমনকি পার্ক কেন্দ্রিক ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসার ঘটায়,পাল্টে গেছে অর্থনৈতিক চিত্র।
রাজশাহী শহর থেকে স্থানীয় বিভিন্ন পরিবহনে যেমন বাস সিএনজি বা অটো রিক্সায় চড়ে গোদাগাড়ী জিরো পয়েন্ট হতে ৯ কিলোমিটার দূরত্ব অবস্থিত সাফিনা পার্কটিতে আসতে পারেন দর্শনার্থীরা। গ্রামীণ পরিবেশে এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে মাঝে মধ্যে ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটে। কিন্ত্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি এসব ক্রটি-বিচ্যুতিকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বার্থনেষী মহল বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।
এবিষয়ে অপারেশন ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান চালাতে গিয়ে মাঝে মধ্যে ছোট খাটো কিছু সমস্যা হয় যেগুলো আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ আমাদের স্টাফদের সহযোগিতায় সমাধানের চেষ্টা করে থাকি, সার্বক্ষণিক নজরদারিসহ সব রকম নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করি এবং আশা করি আগামী দিনে শাফিনা পার্ক দেশের শীর্ষে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে যাবে।
প্রিন্ট

ফরিদপুরের ভাটি কানাইপুরে ডাকাতি সংঘটিত 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















