মোঃ রাশেদ শরীফঃ
শতকোটি টাকা ব্যয়ে নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ চললেও তার পাশেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা সংলগ্ন মধুমতী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার উত্তর চরনারানদিয়া ও দেউলী এলাকায় অন্তত ৫-৬টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু আলফাডাঙ্গার চাংড়া, চরনারানদিয়া, দেউলী, বেরিরহাট, বানা এবং মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার যশবন্তপুর ও চর যশবন্তপুরসহ নদীর দুই পাড়ের বিভিন্ন স্থানে ডাম্পিং করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নদীর তীরবর্তী স্থানে ডাম্পিং এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি পুনরায় নদীতে ফেলার কারণে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে নদীতীরবর্তী বসতি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা।
জানা গেছে, এ অঞ্চলের মধুমতী নদীতে একাধিক বিপজ্জনক বাঁক থাকায় বর্ষা মৌসুমে তীব্র স্রোত নদীপাড়ে আঘাত হানে। ফলে এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনপ্রবণ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চরনারানদিয়া, চরঝামা, দেউলী ও বেড়িরহাট এলাকায় জিওব্যাগ ও ব্লক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। তবে একইসঙ্গে প্রকল্পের অদূরে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন কার্যক্রম প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গার উত্তর চরনারানদিয়া মৌজার ৫৯ একর জায়গা বালুমহল হিসেবে ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই বালু উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে। এ বিষয়ে বালুমহলের ইজারাদার রবিউল ইসলাম দাবি করেন, তারা নির্ধারিত সীমানার ভেতর থেকেই বালু উত্তোলন করছেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান জানান, দেউলী এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ইতোমধ্যে দুইবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে ব্যবহৃত পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। নির্ধারিত সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। এছাড়া, অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হলে ইজারা বাতিলের সুপারিশ করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। নদীতে অভিযান পরিচালনায় দ্রুতগামী নৌযানের অভাব থাকায় কিছুটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাছাকাছি এলাকা থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে না।
মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকার নির্ধারিত বালুমহল থেকেই বালু উত্তোলন এবং অনুমোদিত স্থানে তা সংরক্ষণ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে এই নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ডাম্পিং করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ সড়ক ভারী যানবাহনের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এ. এস.এম
মুরসিদ। মোবাইল: 01728 311111
ঢাকা অফিসঃ হোল্ডিং-১৩, লাইন-৬, রোড- ১২, ব্লক-বি, মিরপুর-১১, ঢাকা-১২১৬।
ফরিদপুর অফিসঃ মুজিব সড়ক, ফরিদপুর। মোবাইলঃ ০১৭১১ ৯৩৯৪৪৫