ইসমাইল হােসেন বাবুঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কুষ্টিয়া–৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের একটি আদালত।
মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান,আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল জানান, বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে জেলা বিএনপির নির্দেশে তিনি মানহানির এ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আদালত মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করলেও নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে হাজির হননি।
শুনানির সময় বাদীপক্ষ আদালতকে জানায়, সমন পাওয়ার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। এ সময় আদালত জানতে চান, সংসদ অধিবেশন চলাকালে কোনো সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব কি না। জবাবে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন হলেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে আইনি কোনো বাধা নেই।
পরে আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আইনজীবী হুমায়ুন কবির বলেন, এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
গত ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হননি।
বাদী হুমায়ূন কবীর বলেন,গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় মন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মুফতি আমির হামজা বলেছিলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী।
হুমায়ূন কবীর বলেন, পরে তার ওই মন্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ পেলে আমার নজরে আসে। এতে মন্ত্রীর সম্মানহানি হয়েছে বলে আমি দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মানহানির একটি মামলা করি। এ মামলায় আজ বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে আমির হামজার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
একই ঘটনায় গত ৩০ মার্চ এস এম নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে শতকোটি টাকার মানহানির মামলা করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এ. এস.এম
মুরসিদ। মোবাইল: 01728 311111
ঢাকা অফিসঃ হোল্ডিং-১৩, লাইন-৬, রোড- ১২, ব্লক-বি, মিরপুর-১১, ঢাকা-১২১৬।
ফরিদপুর অফিসঃ মুজিব সড়ক, ফরিদপুর। মোবাইলঃ ০১৭১১ ৯৩৯৪৪৫