শুভাশীষ ভট্টাচার্য্য তুষারঃ
প্রয়োজনীয় কাঁচা মাছের অভাবে চলনবিল অধ্যুষিত এলাকার অধিকাংশ শুটকি মাছের চাতাল এবার বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যেই এ এলাকার নদ-নদী, খাল বিলের পানি কমে গেছে। কিছু খাল বিল ইতিমধ্যে প্রায় শুকিয়েও গেছে। পানি প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসলেও খাল বিলে পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত দেশি মাছ ফলে অনেক শুটকি ব্যবসায়ী এবার এখনো চাতাল স্থাপন করেননি। কিছু শুটকী ব্যবসায়ী চাতাল স্থাপন করে খুব সামান্য পরিমানে পুটি মাছ শুটকি করছেন। আবার কেউ চাতাল স্থাপন করলেও মাছের অভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মাছ শুটকি করার কার্যক্রম।
জানা গেছে, মৌসুমী শুটকি ব্যবসায়ীরা সকাল থেকে রাত অবধি মাছ কেনা, ধোয়া, চাতালে শুকানো ও বাছাই করে পৃথক করার কাজ করতেন। এবার মাছ না থাকায় পাল্টে গেছে সে চিত্র। কর্ম হারিয়েছেন চাটমোহর ভাঙ্গুড়া ফরিদপুরের চলনবিল এলাকার শত শত নারী পুরুষ শুটকি শ্রমিক।
সরেজমিনে বুধবার( ২০ নভেম্বর) বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শুটকি ব্যবসায়ী ও এবং এ কাজের সাথে সম্পৃক্তদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,এবারের চিত্র।
শুটকি মাছের ধোয়া, চাতালে শুকানো ও বাছাই করার কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকা রহিমা বেগম আজকের পত্রিকাকে জানান,আগের বছরগুলোতে আমি সারাদিন কাজ করে প্রতিদিন ৪ শত থেকে ৫ শত টাকা রোজগার করে সংসার চালাতাম। এ বছর মাছের অভাবের কারণে বেকার দিন কাটাচ্ছি। কোন কাজ নাই।
উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া গ্রামের শুটকি ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে জানান, চলনবিল এলাকায় এবার মাছ নেই বললেই চলে। চলনবিলে যে মা মাছ এসেছিল মৌসুমের শুরুতেই চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে সেই মা মাছ নিধন করা হয়। এবার অগ্রহায়ন মাসেই মাছ সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। শুটকি মৌসুমের শুরুতে মেঘ বৃষ্টির কারণে তাদের লোকসান শুরু হয়। যে যৎসামান্য মাছ শুকিয়েছেন মোকামে দাম না থাকায় লোকসানের আশংকায় তা বিক্রি করতে পারছেন না তিনি।
উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের চিনাভাতকুর গ্রামের শুটকি ব্যাবসায়ী কুমারী বিথি রানী আজকের পত্রিকাকে জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে মাছ শুকানোর কাজ করেন তিনি। এবারের মৌসুমে গত পনেরো দিন ধরে শুকানোর জন্য কোন মাছ পাননি তিনি। যে যৎসামান্য কাঁচা মাছ বাজারে আসে তার দাম অনেক বেশি। আগামি দিনে মানুষ চলনবিল এলাকার শুটকি মাছের স্বাদ ভুলে যাবে এ আাশংকাও করেন তিনি।
ভাঙ্গুরা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামের শুকটি মাছ ব্যাবসায়ী জুলহাস আলী জানান,দিলপাশার,পুইবিল,আদাবাড়িয়া বিল,দত্তখারুয়া বিলে একসময় পচুর মাছ পাওয়া যেতে। বর্তমানে অবৈধভাবে চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মা মাছ সহ অন্যান মাছ শিকার করার কারণে দেশিয় প্রজাতির পুটি,টাকি,খৈলশা,চাঁদাসহ সব মাছের উৎপাদন ও প্রজনন কমে গেছে।তাই কাচামালের অভাবে আমাদের কার্যক্রম বন্ধের দিকে।
ফরিদপুর উপজেলার শুটকি ব্যবসায়ী গাজিউর রহমান আজকের পত্রিকাকে জানান, এ বছর মাছের সংকটের কারণে আমাদের শুকটি আমদানি রপ্তানি মোটামুটি বন্ধো হওয়ার পর্যায়ে চলে গেছে, আমরা বাধ্য হয়ে অন্য ব্যবসায়ে চলে যাচ্ছি।
এ ব্যাপারে চাটমোহরে সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আব্দুল মতিন আজকের পত্রিকাকে জানান, সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে চলনবিল এলাকায় বেশি মাছ ধরা পরে। চায়নাদুয়ারী জালের প্রভাবে কমছে মাছ। এবার জেলেরা অবৈধ স্বোতী জাল স্থাপন করতে না পারায় নদ নদী হয়ে মাছ ভাটিতে চলে যাওয়ায় কাাঁচা মাছের সংকট চলছে।
এ ব্যাপারে পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল আজকের পত্রিকাকে জানান, অবৈধ স্বোতি দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করার মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। কাচামালের অভাবে অধিকাংশ শুটকি চাতাল বন্ধ রয়েছে। অনেকগুলো শুটকি চাতাল বন্ধ আছে বলে জেনেছি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এ. এস.এম
মুরসিদ। মোবাইল: 01728 311111
ঢাকা অফিসঃ হোল্ডিং-১৩, লাইন-৬, রোড- ১২, ব্লক-বি, মিরপুর-১১, ঢাকা-১২১৬।
ফরিদপুর অফিসঃ মুজিব সড়ক, ফরিদপুর। মোবাইলঃ ০১৭১১ ৯৩৯৪৪৫