ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

রামপালে একসাথে চার সন্তানের জন্ম, দুধের খরচ জোগাতে নাকাল দরিদ্র পিতা

আকাশ উজ্জামান শেখঃ

 

বাগেরহাটের রামপালে এক দরিদ্র পরিবারে আলাউদ্দিনের ঘর আলোকিত করে একই সঙ্গে জন্মগ্রহণ করেছেন চারটি সন্তান যাতে আনন্দের সীমা নাই বাবা মা এবং পরিবারের সদস্যদের , নতুন চার মেহমানের আগমনে আনন্দের জোয়ার পরিবারে কিন্তু সে আনন্দে তিক্ততা সৃষ্টি করছে অর্থ।

 

উপজেলার কামরাঙ্গার চর এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন গোলদার পেড়িখালি বাজার জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে কাজ করেন। তার মাসিক আয় মাত্র ৭ হাজার টাকা। এই সীমিত আয়ে আগে থেকেই ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। নতুন করে চার সন্তানের জন্মে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে এখন ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।

 

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ তার স্ত্রী মনিরা বেগম একসাথে চারটি সন্তানের জন্ম দেন। এর আগে তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে একজনের বয়স ১৫ বছর এবং অন্যজনের বয়স ৮ বছর।

 

বর্তমানে মা ও চার নবজাতক শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যয়। পরিবারটির দাবি, নবজাতকদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ টাকার দুধ প্রয়োজন, যা তাদের সামর্থ্যের বাইরে।
আলাউদ্দিন গোলদার বলেন, “একদিকে সন্তান জন্মের আনন্দ, অন্যদিকে সংসারের চিন্তা দুইয়ের মধ্যে পড়ে গেছি। প্রতিদিন দুধ কিনতেই ১৫০০ টাকা লাগে, যা আমার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

 

তিনি আরও বলেন, “সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে একবার ১০০০ টাকা সহায়তা পেয়েছি। কিন্তু এটি খুবই অপ্রতুল। সন্তানদের ঠিকভাবে বড় করতে হলে সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি।”

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক কষ্টে ছিল। নতুন চার সন্তানের আগমনে সেই কষ্ট আরও বেড়েছে। এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহায়তা না পাওয়ায় পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

 

এলাকাবাসীর মতে, এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সচেতন মানুষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে নবজাতকদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ

error: Content is protected !!

রামপালে একসাথে চার সন্তানের জন্ম, দুধের খরচ জোগাতে নাকাল দরিদ্র পিতা

আপডেট টাইম : ০৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
আকাশ উজ্জামান শেখ, রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি :

আকাশ উজ্জামান শেখঃ

 

বাগেরহাটের রামপালে এক দরিদ্র পরিবারে আলাউদ্দিনের ঘর আলোকিত করে একই সঙ্গে জন্মগ্রহণ করেছেন চারটি সন্তান যাতে আনন্দের সীমা নাই বাবা মা এবং পরিবারের সদস্যদের , নতুন চার মেহমানের আগমনে আনন্দের জোয়ার পরিবারে কিন্তু সে আনন্দে তিক্ততা সৃষ্টি করছে অর্থ।

 

উপজেলার কামরাঙ্গার চর এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন গোলদার পেড়িখালি বাজার জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে কাজ করেন। তার মাসিক আয় মাত্র ৭ হাজার টাকা। এই সীমিত আয়ে আগে থেকেই ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। নতুন করে চার সন্তানের জন্মে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে এখন ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।

 

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ তার স্ত্রী মনিরা বেগম একসাথে চারটি সন্তানের জন্ম দেন। এর আগে তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে একজনের বয়স ১৫ বছর এবং অন্যজনের বয়স ৮ বছর।

 

বর্তমানে মা ও চার নবজাতক শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যয়। পরিবারটির দাবি, নবজাতকদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ টাকার দুধ প্রয়োজন, যা তাদের সামর্থ্যের বাইরে।
আলাউদ্দিন গোলদার বলেন, “একদিকে সন্তান জন্মের আনন্দ, অন্যদিকে সংসারের চিন্তা দুইয়ের মধ্যে পড়ে গেছি। প্রতিদিন দুধ কিনতেই ১৫০০ টাকা লাগে, যা আমার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।

 

তিনি আরও বলেন, “সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে একবার ১০০০ টাকা সহায়তা পেয়েছি। কিন্তু এটি খুবই অপ্রতুল। সন্তানদের ঠিকভাবে বড় করতে হলে সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি।”

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক কষ্টে ছিল। নতুন চার সন্তানের আগমনে সেই কষ্ট আরও বেড়েছে। এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহায়তা না পাওয়ায় পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

 

এলাকাবাসীর মতে, এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সচেতন মানুষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে নবজাতকদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়।