ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

জামায়াকে ক্লাব ঘর ভাড়া দেওয়ার অপরাধে ইউনিয়ন দলনেত্রী ঝর্ণার চাকরি থেকে অব্যাহতি

রনি আহমেদ রাজু:

 

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বসুর ধুলজুরি গ্রামের আনসার ও ভিডিপির ক্লাব ঘরটি এখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।

 

সোমবার ১৮ আগস্ট সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আনসার ভিডিপি ক্লাব ঘরের সামনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি সাইনবোর্ড রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়েত নেতা মো: মতিয়ার রহমান জানান, আমরা ঘরটি ভিডিপি অফিসের ঝর্ণার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছি। তবে এখনো কোনো লিখিত চুক্তিপত্র হয়নি।

 

মহম্মদপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মর্জিনা খাতুন (বিনু) এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ক্লাব ঘর ভাড়া দেওয়ার সরকারি অনুমতি থাকলেও ভাড়ার টাকা আনসার ভিডিপি উন্নয়ন তহবিলে জমা দিতে হয়। কিন্তু ঐ ঘরটি কাউকেই ভাড়া দেওয়া হয়নি। জামায়েত কীভাবে কার্যালয় করেছে, সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমরা কাউকেই ভাড়া দিইনি, এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।

 

মহম্মদপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক প্রতাপ কুমার একই বক্তব্য দেন। তিনি জানান, আমরা কখনোই ঘরটি ভাড়া দিইনি।

 

এদিকে, ইউনিয়ন আনসার ও ভিডিপি ক্লাব ঘরের সভাপতি মো: মফিজুর রহমান জানান, ঘর ভাড়ার বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। আমার সেক্রেটারিও কিছু জানে না। হঠাৎ করে দেখি এখানে জামাতের কার্যালয় চালু হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়রা প্রশ্ন করলে আমি কোনো উত্তর দিতে পারছি না।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি আনসার ও ভিডিপির ক্লাব ঘরটি দখল করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ বিষয়ে এখনো প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

 

মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার বসুর ধুলজুরি গ্রামের আনসার ভিডিপি ক্লাব সম্প্রতি রাজনৈতিক দলীয় কার্যক্রমে ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিক খোলা কাগজে ১৯ আগস্ট আনসার ভিডিপির ক্লাব দখল করে জামায়াতের কার্যালয় করার অভিযোগ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে ক্লাব ঘর রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি তদন্ত পরিচালনা করে।

প্রাথমিক তদন্তে আনাসার ও ভিডিপি জানায়, এই ক্লাব ঘরটি বাহিনীর উপজেলা বা জেলা কার্যালয় থেকে ভাড়া প্রদান করা হয়নি। তবে মহম্মদপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন দলনেত্রী ঝর্ণা পারভীন গোপনে অনুমোদন বিহীনভাবে ক্লাব ঘরটি ভাড়া দেয়ার চেষ্টা করেন। খবর পাওয়ার পরপরই মাগুরা জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ মাহবুবুর রহমান মহম্মদপুর উপজেলা প্রশিক্ষক প্রতাপ রায়কে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেন।

 

পরিদর্শনকালে রাজনৈতিক দলের কোনো সাইনবোর্ড বা দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার দৃশ্য পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে ক্লাব ঘরটি তালাবদ্ধ করে বাহিনীর দখলে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ইউনিয়ন দলনেত্রী ঝর্ণা পারভীন স্বীকার করেন যে, তিনি নিজ উদ্যোগে ভাড়া দেওয়ার কথা বলেছেন, তবে কোনো লিখিত চুক্তিপত্র হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কেও তিনি অবগত ছিলেন না বলে জানান।

 

দায়িত্ব পরিধির অপব্যবহার ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া শৃঙ্খলা বহির্ভূত এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে ঝর্ণা পারভীনকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে যে, কোনোভাবেই বাহিনীর কোনো সম্পত্তি অনুমোদন ছাড়া ভাড়া বা ব্যবহারযোগ্য নয়। বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মতো কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে ও আনসার ও ভিডিপির বাহিনীর স্বার্থের জন্য সে যেই হোক তাকে শাস্তি ও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বাহিনীর আইন কাঠামো নিয়ম অনুযায়ী।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরামপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন

error: Content is protected !!

জামায়াকে ক্লাব ঘর ভাড়া দেওয়ার অপরাধে ইউনিয়ন দলনেত্রী ঝর্ণার চাকরি থেকে অব্যাহতি

আপডেট টাইম : ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
রনি আহমেদ রাজু, নিজস্ব প্রতিনিধি :

রনি আহমেদ রাজু:

 

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বসুর ধুলজুরি গ্রামের আনসার ও ভিডিপির ক্লাব ঘরটি এখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে।

 

সোমবার ১৮ আগস্ট সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আনসার ভিডিপি ক্লাব ঘরের সামনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি সাইনবোর্ড রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়েত নেতা মো: মতিয়ার রহমান জানান, আমরা ঘরটি ভিডিপি অফিসের ঝর্ণার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছি। তবে এখনো কোনো লিখিত চুক্তিপত্র হয়নি।

 

মহম্মদপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মর্জিনা খাতুন (বিনু) এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ক্লাব ঘর ভাড়া দেওয়ার সরকারি অনুমতি থাকলেও ভাড়ার টাকা আনসার ভিডিপি উন্নয়ন তহবিলে জমা দিতে হয়। কিন্তু ঐ ঘরটি কাউকেই ভাড়া দেওয়া হয়নি। জামায়েত কীভাবে কার্যালয় করেছে, সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমরা কাউকেই ভাড়া দিইনি, এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।

 

মহম্মদপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক প্রতাপ কুমার একই বক্তব্য দেন। তিনি জানান, আমরা কখনোই ঘরটি ভাড়া দিইনি।

 

এদিকে, ইউনিয়ন আনসার ও ভিডিপি ক্লাব ঘরের সভাপতি মো: মফিজুর রহমান জানান, ঘর ভাড়ার বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। আমার সেক্রেটারিও কিছু জানে না। হঠাৎ করে দেখি এখানে জামাতের কার্যালয় চালু হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়রা প্রশ্ন করলে আমি কোনো উত্তর দিতে পারছি না।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি আনসার ও ভিডিপির ক্লাব ঘরটি দখল করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ বিষয়ে এখনো প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

 

মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার বসুর ধুলজুরি গ্রামের আনসার ভিডিপি ক্লাব সম্প্রতি রাজনৈতিক দলীয় কার্যক্রমে ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিক খোলা কাগজে ১৯ আগস্ট আনসার ভিডিপির ক্লাব দখল করে জামায়াতের কার্যালয় করার অভিযোগ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে ক্লাব ঘর রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি তদন্ত পরিচালনা করে।

প্রাথমিক তদন্তে আনাসার ও ভিডিপি জানায়, এই ক্লাব ঘরটি বাহিনীর উপজেলা বা জেলা কার্যালয় থেকে ভাড়া প্রদান করা হয়নি। তবে মহম্মদপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন দলনেত্রী ঝর্ণা পারভীন গোপনে অনুমোদন বিহীনভাবে ক্লাব ঘরটি ভাড়া দেয়ার চেষ্টা করেন। খবর পাওয়ার পরপরই মাগুরা জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ মাহবুবুর রহমান মহম্মদপুর উপজেলা প্রশিক্ষক প্রতাপ রায়কে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেন।

 

পরিদর্শনকালে রাজনৈতিক দলের কোনো সাইনবোর্ড বা দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার দৃশ্য পাওয়া যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে ক্লাব ঘরটি তালাবদ্ধ করে বাহিনীর দখলে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ইউনিয়ন দলনেত্রী ঝর্ণা পারভীন স্বীকার করেন যে, তিনি নিজ উদ্যোগে ভাড়া দেওয়ার কথা বলেছেন, তবে কোনো লিখিত চুক্তিপত্র হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কেও তিনি অবগত ছিলেন না বলে জানান।

 

দায়িত্ব পরিধির অপব্যবহার ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া শৃঙ্খলা বহির্ভূত এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে ঝর্ণা পারভীনকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে যে, কোনোভাবেই বাহিনীর কোনো সম্পত্তি অনুমোদন ছাড়া ভাড়া বা ব্যবহারযোগ্য নয়। বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মতো কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে ও আনসার ও ভিডিপির বাহিনীর স্বার্থের জন্য সে যেই হোক তাকে শাস্তি ও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বাহিনীর আইন কাঠামো নিয়ম অনুযায়ী।